আলআমিন নগরে কব্জি বিচ্ছিন্ন করে উল্লাসের ঘটনার প্রকৃত আসামীদের পুলিশের ভূমিকা !

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন আল আমিন নগরে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে কুপিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একই পরিবারের ৬ জনসহ মোট ৭ জনকে গুরুত্বর অতর্কিত হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা এবং ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে।

এজাহার সূত্র পাওয়া যায়, গত ২ অক্টোবর শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ১৮নং ওয়ার্ডের সৈয়দপুর আলআমিন নগর এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ইউসুফ মিয়ার ছেলে ফয়সাল ও রাসেলের সাথে একই এলাকার ইয়াসিন, মামুন সহ কয়েক জনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ মামুন ও ইকবাল মিয়াকে রাস্তা পেয়ে অতর্কিত হামলা করে সন্ত্রাসী ফয়সাল, রাসেল, হৃদয়, ইউসুফ, ইউনুছ গং। হামলায় দেশীয় অস্ত্র- চাপাতি, বড় ছুরি, রামদা, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হামলা করে সন্ত্রাসী বিবাদী আসামী ১। ফয়সাল, ২। রাসেল, ৩। হৃদয়, ৪। ইউনুস, ৫। ইউসুফ গংরা। প্রতিপক্ষ ১নং বিবাদী সন্ত্রাসী রাসেল হত্যার উদ্দেশ্যে ইয়াছিন (১৭) এর মাথা লক্ষ করে চাপাতি দিয়ে কোপ দিলে চাপাতির কোপ হাতে ফিরাতে গেলে আঘাত বাম হাতের কব্জিতে লেগে হাত থেকে কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাসেলের নির্দেশে ২নং বিবাদী ফয়সাল হতে ইউনুস, ইউসুফ,হৃদয় ৫নং বিবাদীরা তাদের হাতে থাকা ছুরি, চাপাতি দিয়ে ইমান (২১), ইকবাল (৪০), প্রতিবেশী ভ্যানগাড়ি চালক আলমগীর (২১), উর্মী (১৮), মিরাজ (৩৭) দের হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতারী কোগাইতে থাকে। বিবাদীদের আঘাতে ইমন (২১) এর বাম হাতের মধ্যমী ও অনামিকা আগুলে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম এবং মাথার পিছনে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ইকবাল (৪০) এর বাম পায়ের হাটুর বাটি কেটে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। আলমগীর (২১) এর কনিষ্ট আঙ্গুল কেটে পরে গেছে এবং অনামিকা আঙ্গুল কেটে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। উর্মী (১৮), এর বাম হাতের কনুইর নীচে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। মামুন (২৬) এর মাথার পিছনে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। মিরাজ (৩৭) এর বাম হাতে দুটি কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। বিবাদীদের হামলা ও আঘাতের পর আহতদের আত্মচিৎকার করলে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীরা বিভিন্ন প্রকার হুমকি দুমকি প্রদান করে উক্ত স্থান ত্যাগ করে। বিবাদীরা হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে কোপাইয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। মুমূর্ষ অবস্থায় ইয়াছিন (১৭), মিজান (৩২), ইমন (২১), আলমগীর (২১), মামুন (১৬) ইকবাল (৪০) দের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ইয়াছিন (১৭)-কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখেন এবং তার হাত জোড়া লাগানোর জন্য অপারেশন করা হবে। মিজান (৩২), এর মাথার ক্ষতস্থানে ২০টি সেলাই দেন, ইমন (২১) এর মধ্যমা এবং অনামিকা আঙ্গুলে ৬টি সেলাই দেন এবং মাথার পিছনে ক্ষতস্থানে ৫টা সেলাই দেন। আলমগীর (২১) এর কনিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে পরে গেছে এবং অনামিকা আঙ্গুল কেটে গেছে, তার দুটি আঙ্গুলে ১৭টি সেলাই দেন, মামুন (২৬) এর মাথার পিছনে ক্ষতস্থানে ২২টি সেলাই দেন, ইকবাল (৪০) এর বাম পায়ের হাটুর বাটিতে মোট ৮২টি সেলাই দেন। উন্নী (১৮), ও মিরাজ (৩৭) ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার উর্দী (১৮) বাম হাতের কনুইর নীচে ক্ষতস্থানটি সেলাই দেন এবং মিরাজ (৩৭) এর ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গে মামলার বাদী এ্যামেলী বেগম বলেন, আমি গত ৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা নং- ০৩ তারিখ- ০৩/১০/২০২৬ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৬/৩২৪/৩২৩/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড রজু করি। কিন্তু দেখা যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আসামী পক্ষের ৪ জন মহিলা আসামীকে লোক দেখানো গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে, মহামান্য আদালত মহিলা আসামী বিবেচনা করে তাদের জামিনে মুক্তি প্রদান করেন। কব্জি বিচ্ছিন্ন, আঙুল বিচ্ছিন্ন, হাটু থেকে পা বিচ্ছিন্ন’র চেষ্টা, একাধিক ব্যক্তির মাথায় চাইনি কুড়ালের কোপ, নারীর উপর হামলা এসব আইন বিরোধী অপরাধের প্রকৃত আসামীদের গত ১ সপ্তাহে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে আমাদের পরিবার ও এলাকাবাসি হতাশাগ্রস্থ। কোন রহস্যজনক কারনে আসামী গ্রেফতার করছে না পুলিশ তা তারাই ভালো জানেন। আমরা আশা করি অতি দ্রুত হামলার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও পুলিশ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো সাজেদুর রহমান প্রতিবেদক কে মুঠোফোনে জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিছু আসামী ধরতে সক্ষম হয়েছি। অন্যান্য আসামীদের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাখাওয়াত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এই মামলার এজাহারভুক্ত ৪ জন মহিলা আসামী ধরেছি আর বাকি আসামীরা অচিরেই গ্রেফতার হবে।

ভুক্তভোগী এবং আল আমিন নগর এলাকার বাসিন্দারা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আই ওয়াশের জন্য পুলিশ ৪জন মহিলা আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে মহামান্য আদালত আসামীদের বিশেষ বিবেচনায় জামিনে মুক্তি প্রদান করে। তাছাড়া নারীসহ ৭ জনকে কুপিয়ে কব্জি বিচ্ছিন্ন করে উল্লাস করার মত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ করে। ভুক্তভোগী আহত পরিবার এবং সচেতন নাগরিক এ বিষয়ে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« এপ্রিল ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  ১২৩৪৫
৬৭৮৯১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০