নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অবৈধ দাবি করেছেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। তাঁর দাবি, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিবের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই। কেবল দলের কেন্দ্রীয় কমিটিই মহানগর আহ্বায়ক কমিটির কোনো সদস্যের পদ স্থগিত বা বাতিল করতে পারে।
গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান।
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। সুতরাং এই কমিটির কোনো সদস্যের পদ বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতাও কেন্দ্রীয় কমিটির। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সেই ক্ষমতা নেই। তাঁরা থানা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারেন, কিন্তু নিজেদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যপদ স্থগিত করতে পারেন না।’
আনোয়ার প্রধান দাবি করেন, ‘আমার সদস্যপদ স্থগিতের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা দলের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। তাই আমি এই স্থগিতাদেশকে অবৈধ মনে করি। আমি এখনো নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদে বহাল আছি।’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিধান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ওয়ার্ড থেকে মহানগর বা জেলা কমিটি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমিটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে কাউকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করতে হলে অনুমোদন দানকারী কমিটির এবং স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি কিংবা দলের চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো অনুমোদিত কমিটি বাতিল করা যায় না। অনুমোদন দানকারী কমিটিও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কমিটির অনুমোদনক্রমে কোনো কমিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের পূর্ণ ব্যাখ্যা দলের মহাসচিবকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটি কিংবা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।’
আনোয়ার প্রধান বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’













