ব‍্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ আলোচিত অপহরণ মামলায় পুলিশের চার্জশিট গ্রহণ

নারায়ণগঞ্জ ৭১ নিউজ:   নারায়ণগঞ্জে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ আলোচিত অপহরণ মামলায় সাতজন আসামীর বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আমলি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এম. সাইফুল ইসলাম অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। মামলার অভিযোগপত্র নম্বর ৩১৮।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। বাদীপক্ষ অভিযোগপত্রের বিষয়ে কোনো আপত্তি না জানানো এবং উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্তরা হলেন—মো. আল আমিন শেখ ওরফে জিতু, মো. কবির হালদার, লতিফ সিদ্দিকী রতন, সাব্বির আহমেদ, ইরান হোসেন মোহন, মো. সাকিব হোসেন ও মো. ছাহাদ গণ।

মামলার এজাহার ও তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরদিন ২ জুন পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকার একটি ফেরিঘাটের কাছ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ সোহাগের স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ১২(০৬)২৫। এতে দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইনগত দিক থেকে দণ্ডবিধির ৩৬৪ ধারা অপহরণ বা অপহৃত ব্যক্তিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যসহ সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর ৩৪ ধারা একাধিক ব্যক্তির অভিন্ন অভিপ্রায় বা common intention অনুযায়ী সংঘটিত অপরাধের দায় নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে অভিযোগপত্রে এসব ধারার ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, বিচারপর্বে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে তার আইনগত ভিত্তি যাচাই করা হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, তদন্তের সময় বিভিন্ন আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত যানবাহন, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা মত দিয়েছেন।
তবে আইনগতভাবে অভিযোগপত্র গ্রহণের অর্থ আসামিরা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনার পর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনের দৃষ্টিতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি নন।

আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, “আমি মনে করি আইনের বিচার ও ন্যায়বিচার হবে। চার্জশিটে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমি প্রত্যাশা করি, আদালতের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।”

মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী ধাপে আদালত আইন অনুযায়ী মামলার অভিযোগ গঠনসহ বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামিপক্ষের বক্তব্য ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালত মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য: ভুক্তভোগী: আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বাদী: তানিয়া আহম্মেদ মামলা নম্বর: ১২(০৬)২৫ থানা: ফতুল্লা মডেল থানা, নারায়ণগঞ্জ ধারা: দণ্ডবিধি ৩৬৪/৩৪ ঘটনার তারিখ: ১ জুন ২০২৫ উদ্ধার: ২ জুন ২০২৫, পায়রা বন্দর এলাকা, পটুয়াখালী অভিযোগপত্র নম্বর: ৩১৮ অভিযুক্ত: ৭ জন অব্যাহতির সুপারিশ: ৩ জন।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জানুয়ারি ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
   
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১