নারায়ণগঞ্জ ৭১: আজ রবিবার বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ বাংলা শুভ নববর্ষ । বাঙালির প্রাণের উৎসব, আনন্দ বেদনার কাব্য গাঁথার দিবস শুরু হবে আজ । পুরাতনকে বেদনাসিক্তভাবে বিদায় দিয়ে নতুনকে করব গ্রহণ।

সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও বাংলা নববর্ষ উদযাপণে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সকাল সাড়ে আটটায় শহরের চাষাঢ়া থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সেখান থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসি বাংলোতে গিয়ে শেষ হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আয়োজন করা হয়েছে পান্তা ইলিশের।

এছাড়াও সকাল নয়টায় শহরের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগের মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার বসন্তের শেষ দিনে চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী বিদায় জানিয়েছে বাংলা ১৪২৫-কে। আজ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

নির্বিগ্নে উৎসব পালনে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম জানান, বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকেও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে এবং গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারীও জোরদার করা হয়েছে। কোথাও কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা করছি না।

বাংলাবর্ষের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জের কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ও কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপণের আয়োজন করা হয়েছে।

দিনব্যাপী এমনই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। বৈশাখের আবহে সবাই মনে মনে ‘রাঙিয়ে দাও রাঙিয়ে দাও আমার সত্ত্বাকে/আষাঢ় শ্রাবণ কার্তিক পৌষ মাসে/আমার মনেতে যেন রঙ লেগে থাকে’ বন্দনা করতে করতে ঘরে ফিরবে।

গ্রাম থেকে শহর, নগর থেকে বন্দর, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ থেকে অফুরান প্রকৃতি সবখানেই আজ দোল দেবে বৈশাখী উন্মাদনা। মুড়ি-মুড়কি, মন্ডা-মিঠাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে নাচে-গানে, ঢাকেঢোলে, শোভাযাত্রায় পুরো জাতি বরণ করবে নতুন বছরকে। খোলা হবে বছরের নুতন হিসাব নিয়ে হালখাতা। চলবে মিষ্টিমুখের আসর। তারও আগে সকালটা কারও কারও শুরু হয়েছে নগর সংস্কৃতির দান পান্তা-ইলিশ উৎসবে মেতে উঠে।