নারায়ণগঞ্জ৭১:  রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র একে ২২ রাইফেল, চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ৪৭ রাউন্ড গুলিসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনজনকে আটকের মধ্যদিয়ে একটি ভয়াবহ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা ভণ্ডুল হলো। সন্ত্রাসীদের টার্গেট ছিল ঢাকা মহানগর যুবলীগের এক নেতা।

গোয়েন্দাদের দাবি, দুবাইয়ে অবস্থানরত একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার পরিকল্পনার কথা পুলিশকে জানায় গ্রেফতার হওয়া তিন সন্ত্রাসী।

এমনকি গণপূর্তের একজন নামকরা ঠিকাদার ও ঢাকা মহানগর যুবলীগের একজন সহ-সম্পাদককেও হত্যার পরিকল্পনা করে বলে পুলিশকে জানায় সন্ত্রাসীরা।

শনিবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র সারাবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে সে জন্য ওই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সূত্রটি।

গোয়েন্দা পুলিশের ওই সূত্রটি জানান, দুবাইয়ের ওই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাংলাদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী আনিসুর রহমান আনিস ও এসএম ওমর ফারুক ললাট নামে দুই সন্ত্রাসীর সঙ্গে কথা বলত। আনিস কিছুদিন হলো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দীর্ঘদিন জেলে খেটে বের হয়েছেন। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির চরমপন্থী নেতা ছিলেন। তিনি একজন বোমা বিশেষজ্ঞ। তিনি বড় ধরনের বোমা তৈরিতে পারদর্শী। তার বাড়ি খুলনায়।

আরেক সন্ত্রাসী এসএম ওমর ফারুক ললাট। তিনি মূলত একজন শ্যুটার। একে ২২ সহ অত্যাধুনিক সব আগ্নেয়াস্ত্র চালনায় দক্ষ তিনি। এই দুই সন্ত্রাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো ফয়সাল, জুয়েল ও রুবেলের সঙ্গে।

ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে খান মো. ফয়সাল বাদে জিয়াউল আবেদীন জুয়েল ও জাহেদ আল আবেদীন রুবেল সম্পর্কে দুজন আপন ভাই। জুয়েল ও রুবেল এর আগে দুবাইতে ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে থেকেছে। তাদের আরেক ছোটভাই সন্ত্রাসী লিয়ন এর আগে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। প্রায় এক মাস তারা এই অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করে মজুদ রাখেন।

গোয়েন্দা সূত্রটি জানান, সরকার বিরোধী একটি চক্র ও কিছু রাজনৈতিক নেতা আন্ডারগ্রাউন্ডের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ করতে চাইছে। এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে কেউ দেশে রয়েছে আবার কেউ বিদেশে অবস্থান করছে। বিদেশে বসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আঁতাত করে বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নিতে চাইছে।

শীর্ষ দুই নেতা ও একজন ঠিকাদারকে কীভাবে হত্যা করা হবে তার বর্ণনা দিয়ে গোয়েন্দা সূত্রটি আরও জানান, ভিক্ষুক সেজে ঠেলাগাড়িতে কেউ বসবেন, কেউ ঠেলাগাড়িটি ঠেলে নিয়ে যাবেন। এক পর্যায়ে ওই শীর্ষনেতা ও ঠিকাদারের গাড়ির গতি রোধ করবেন। ঠেলাগাড়িতে ভিক্ষুক দেখে গাড়ি থামিয়ে শীর্ষনেতা ও ঠিকাদার বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উপুর্যপুরি কয়েকজন বোমা হামলা চালাবেন। আশেপাশে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাবেন। কেউ একে ২২ দিয়ে ব্রাশফায়ার করবেন। এতেই ওই শীর্ষনেতা ও ঠিকাদারের মৃত্যু হবে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হবে। এটি সফল হতে পারলে একদিকে যেমন আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণে আসবে অন্যদিকে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী নেতাদের কাছ থেকেও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি পূর্ব) অতিরিক্ত উপ কমিশনার (খিলগাঁও জোন) শাহিদুর রহমান রিপন সারাবাংলাকে বলেন্, আমরা অত্যাধুনিক একটি সেমি অটো একে ২২ রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছি। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মূল রহস্য জানা যাবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি পূর্ব) অতিরিক্ত উপ কমিশনার জুয়েল রানা বলেন, ‘আমরা বাকি সন্ত্রাসীদেরকেও দ্রুত গ্রেফতার করতে পারব বলে আশা করছি।’

একে ২২ জব্দ ও সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি পূর্ব) উপ কমিশনার ইলিয়াস শরীফ সারাবাংলাকে বলেন, ‘অস্ত্রধারী তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সামনে কোরবানীর ঈদ। বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হবে। কিছুদিন আগে আরও একটি একে ২২ জব্দ করা হয়েছে। সেখানে জামায়াতের এক নেতার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সব বিষয় মাথায় রেখে তিন সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এছাড়া পলাতক আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।