নারায়ণগঞ্জ৭১: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বর্ষা (২১) কে শারীরিক নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে বলে ময়না তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমান মিলেছে। 


মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দেড় ঘন্টাব্যাপী মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে এমনটাই জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মো: আসাদুজ্জামান জানান, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুস্পষ্ট ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া আরো বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেসব পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে বলা যায় মেয়েটিকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। 


তিনি আরো জানান, ময়না তদন্তের আলামত সমূহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সেখান থেকেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 


এদিকে বর্ষা হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়নকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয়। আদালত আগামীকাল বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম। 

উল্লেখ্য, সোমবার রাত আনুমানিক নয়টায় বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলী সাহারদী এলাকার শ্বশুড় বাড়িতে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠে স্বামীর বিরুদ্ধে।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ রাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ষার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়নকে হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হলে পুলিশ রাতেই তাকে  গ্রেফতার করে। 

আসামী নয়ন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। আগামীকাল বুধবার রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে হত্যাকান্ডের বিষয়টির সার্বিক দিক থেকে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।


এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে বর্ষার মরদেহ দুপুরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে বাদ আছর জানাজা শেষে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে বর্ষার নানা বাড়ি এলাকায় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এসময় নিহত বর্ষার পরিবারের স্বজনরা ছাড়াও নিকট আত্মীয়রা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তসহ হত্যাকারী নয়নের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 
 
অন্যদিকে বর্ষাকে হত্যার পর থেকেই তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, দেবর ও ননদ বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্ষার সাড়ে চার বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নিঝারকেও তারা সাথে নিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কারো কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আশপাশের লোকজন তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেন নি


ওসি রফিকুল ইসলাম আরো জানান, আসামী নয়নকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার তদন্তের প্রয়োজন এবং তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাই তাকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।