নারায়ণগঞ্জ৭১: সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মল্লিক পাড়া গ্রামের এক মসজিদের ইমামকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ভোরে মসজিদের পাশ^বর্তী ইমামের শয়ন কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান।এঘটনাটিকে অনেকে আওয়মীলীগ বিরোধী চক্রান্ত বলে আক্ষায়িত করেছেন।

নিহত ইমামের নাম মো. দিদারুল ইসলাম। সে মল্লিকপাড়া এলাকার নারায়নদিয়া বায়তুল জালাল জামে মসজিদের ইমাম। সে খুলনার তেরখাদা থানার রাজাপুর গ্রামের আবতাফ ফরাজির ছেলে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মল্লিক পাড়া গ্রামের নারায়নদিয়া বায়তুল জালাল জামে মসজিদে গত ২৬ জুলাই যোগদান করেন। তিনি পাশ্ববর্তী ছোট কাজীরগাঁও গ্রামের মসজিদের ইমামের মাধ্যমে মাধ্যমে এ চাকুরিতে যোগদান করেন। ঈদের পরদিন মঙ্গলবার ট্রেনিংয়ের কথা বলে ছুটিতে যান। গত শুক্রবার পুনরায় মসজিদে যোগদান করে জুমার নামাজ পড়ান। এরপর আবার ট্রেনিংয়ে চলে যান। 

পরে আবার মঙ্গলবার এসে এ মসজিদে আসরের নামাজ পড়ান। বৃহস্পতিবার ফজরের সময় মুসল্লিরা নামাজের এসে ইমামকে না পেয়ে নিজেরাই নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা ইমামের শয়ন কক্ষে ফ্যানের শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে ঘরের দরজা খুললে ইমামের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।   

মল্লিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ জানান, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের সময় ইমাম নামাজ পড়াতে মসজিদে না আসায় আমরা মনে করেছি তিনি বাড়িতে গিয়েছেন। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফ্যানের শব্দ শুনে ইমামের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলে বাইরে থেকে শিকল দেওয়া দরজা খুলে ইমামের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।  

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।