নারায়ণগঞ্জ৭১: দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও সম্পন্ন হয়নি নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ নগর ব্রিজের নির্মাণ কাজ। নয় মাসের মধ্যে ব্রিজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও গত আড়াই বছরে অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকারদারি প্রতিষ্ঠান।

সময়মত ব্রিজ না হওয়ায় নিত্যদিনের ভোগান্তিতে বিক্ষুব্ধ এলাকবাসী। আগামী ৬ মাসেও ব্রিজের কাজ শেষ হবে না বলে আশঙ্কা তাদের। তবে আগামী দুই মাসেই ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হবে বলে দাবি করে ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে শহীদ নগর ব্রিজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ব্রিজের কাঠামো দাঁড়ালেও এখনো বাকি রয়ে গেছে আনুসাঙ্গিক অনেক কাজ। এখনো অস্থায়ী নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে শহীদ নগর এলাকার হাজারো মানুষের। ফলে প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। ব্রিজের অর্ধেকাংশের ঢালাই করা হলেও বাকি অংশের ঢালাই এবং পাইলিং কাজে ব্যবহৃত বাঁশ, কাঠ সরানো হয়নি। অন্যদিকে ব্রিজের দুই পাশের উঠার ঢালু পথের কোনো কাজই ধরা হয়নি। অন্যদিকে ব্রিজের দুই পাশেই ৩০০ ফুটের সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজও বাকি রয়েছে।

জানা যায়, ১৮ নং ওয়ার্ড শহীদ নগরবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১৭ সালে ৯ মার্চ শহীদ নগর ব্রিজটি পুননির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রধান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। পাশাপাশি দুটি ব্রিজ, আলামিন নগর ব্রিজ ও শহীদ নগর ব্রিজের পুননির্মাণের জন্য ১৩ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেয় নাসিক। ঠিকাদার কোম্পানিকে শহিদ নগর ব্রিজটির পুননির্মাণের মেয়াদ দেওয়া হয় ৯ মাস। সে অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তরের ৬ মাস আগেই ব্রিজটি ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং নগরবাসীর যাতায়াতের জন্য একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেয়া হয়।

এদিকে নয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যায়নি ব্রিজটির। বর্ষার কারণে ব্রিজের কাজ করা যায়নি এমন অজুহাতে ব্রিজের নির্মাণ মেয়াদ বাড়িয়ে নেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর পরও ঢিলেঢালা ভাবেই চলতে থাকে ব্রিজ নির্মাণ কাজ। পরবর্তীতে এক বছরের মেয়াদকাল পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আবার মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এদিকে দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। আড়াই বছর দুর্ভোগ পোহানোর পরও স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলতে পারেনি উক্ত এলাকার বাসিন্দারা।

শহীদ নগর এলাকারবাসী মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘সরকারি কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয় না আর হবেও না। ঠিকাদাররা কাজ করলে তো করে, না করলে নাই। এমন অবস্থায় কাজ চললে এখনো যে কাজ আছে তা শেষ করতে না হলেও ৬ মাস লাগবে।’
উক্ত এলাকার বাসিন্দা নূরবালা বেগম (৬৩)। জীবনের এ পর্যায়ে বার্ধক্য গ্রাস করলেও সন্তানের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় তাদের কাছে ছুটে যেতে হয়। চলাফেরায় কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাফেরা করতে হয় তাকে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ছোট মাইয়ার বাচ্চা হইছে ছয় মাস। এই ছয় মাস ধইরা খানপুর তল্লা যাই মাইয়ার কাছে। এই সাঁকো দিয়া যাওয়ার সময় অনেক কষ্ট হইয়া যায়। হাঁটতেই সমস্যা হয় আর এটা তো সাঁকো। আল্লাহ জানে কবে ঠিক হবে।’
১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা এলাকাসীর দুর্ভোগের কথা ভেবেই কাজ করেছি। যখনই সাঁকোতে সমস্যা হয়েছে এলাকাবাসী বলার আগে তা ঠিক করিয়েছি। বিভিন্ন কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজ নির্মাণে বিলম্ব করেছে। সবকিছু বিবেচনা করে তাদের দুই দফায় সময় দেওয়া হয়। কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করি।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সহকারি ইঞ্জিনিয়ার মো. জাফর বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে ব্রিজের নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমত বর্ষার কারণে আমরা কাজ করতে পারিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার করণে কাজে বাধা পরে।’
এলাকবাসীর অভিযোগ ও দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব কাজে সময় তো লাগবেই। আর ভালো কিছুর জন্য কিছুটা ভোগান্তি তো থাকবেই। আর যারা ভুক্তভোগীর কোনো কারণ, কারণ হিসেবে দেখে না। তারা শুধু নিজেদের ভোগান্তিটাকেই হাইলাইট করেন।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দুই দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন আর সময় দেওয়া হবে না। সেহেতু দ্বিতীয় দফার মেয়াদও অতিক্রম করেছে সেহেতু এখন তাদের জরিমানা দিয়ে কাজ শেষ করতে হবে।’ জরিমানা বলতে এরপর থেকে ব্রিজের কাজে যে লেবার ও আনুসাঙ্গিক খরচ হবে তা কোম্পানি দেবে বলে জানান প্রকৌশলী।