নারায়ণগঞ্জ৭১: এখনো স্বাভাবিক হয়নি নারায়ণগঞ্জ জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে শিশুসহ ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী। স্বল্প খরচে ভালো চিকিৎসা সেবা পেতে সকলেই ছুটেন সরকারি হাসপাতালগুলোতে। কিন্তু সেবার নামে আসলে কি পাচ্ছেন তারা।

শারীরিক প্রতিবন্ধি ৫ম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত গত ১২ দিন যাবৎ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। গত সাতদিন যাবৎ সে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি। তবে এখানে তার ভালো লাগে না। তার ভাষ্যমতে, হাসপাতাল একটি নোংরা জায়গা। বেডের আশেপাশে তেলাপোকা, বেড়াল ঘুরাফেরা করে, বাথরুমে দুর্গন্ধ।

নুসরাতের দেখাশোনার জন্য তার সঙ্গে সর্বক্ষণ থাকে তার ফুপাতো বোন রূপা। নুসরাতের মত একই অভিযোগ করেন রূপা। রূপা বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ ভালো না। থাকার জন্য শুধু বেড দেয়া হয়, বিছানার চাদর নেই। মাথার উপর পাখা ঘুরছে কিন্তু হওয়া লাগে না। ওয়ার্ডে ভর্তি সবাই বিছানার চাদর, টেবিল ফ্যান বাসা থেকে নিয়ে এসে। বেড ও তার আশেপাশে তেলাপোকা ভর্তি।’

অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘নার্স ও আয়াদের কিছু বললে তারা খুব বিরক্ত হয়। গত মঙ্গলবার রাতের ঘটনা। নুসরাতকে স্যালাইন দেয়া হবে, ডাক্তার বলে গেছেন। আমি বারবার গিয়ে বলছি ওকে স্যালাইনটা একটু লাগিয়ে দিন। আমার কথায় তারা বিরক্ত হন এবং একজন আরেকজনকে বলছেন লাগিয়ে আসো কিন্তু কেউ যাচ্ছে না। এমনভাবে রাত ১২ টা বেজে যায় কিন্তু কাজটা শেষ পর্যন্ত কেউ করেনি।’

প্রায় একই অভিযোগ করেন হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ডেঙ্গু রোগী মো. আতাউর রহমানের (৩০) স্বজনরা। তারা বলেন, ‘বিছানার চাদর উঠিয়ে দেখুন তেলাপোকার বাসা। ছোট ছোট পোকা সারাক্ষণ ঘুর ঘুর করে। গত চারদিন যাবৎ বলছি কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।’

শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। মহিলা ওয়ার্ড পরিদর্শন করে দেখা যায়, ওয়ার্ডের ৪টি পাখা অকেজো হয়ে আছে। যেগুলো চলছে সেগুলোর হাওয়া গায়ে লাগে না। ফলে তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে সব রোগীরাই ব্যবহার করছেন বাইরে থেকে আনা টেবিল ফ্যান। রোগীদের বেডের আশেপাশে ও বিছানার তোশকের নিচেও ছোট ছোট তেলাপোকা ও ছাড়পোকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স ও সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩‘শ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবু জাহের বলেন, ‘আমরা যত চেষ্টাই করি রোগীদের অভিযোগ তো থাকবেই। আজ সকালেও আমি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি। তখন কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা তো কম নয়। বিকেলে তো অধিকাংশ নার্স, কর্মচারীদের ডিউটি শেষ হয়ে যায়।’

একটি ওয়ার্ডের দায়িত্বে মাত্র দু-একজন নার্স ও আয়া কেন ও রোগীদের সাধারণ চাহিদা পূরণ করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতকিছু ফোনে বলা যাবে না। অফিসে এসে দেখা করবেন।’