নারায়ণগঞ্জ৭১: টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকার আরজু বেগম হত্যা মামলার আসামি আইনজীবী হওয়ায় বাদীর পক্ষে মামলা লড়তে কোন আইনজীবী রাজি হচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী আরজু বেগমের বড় বোনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, বড় বোন পরী বেগম, স্বামী আক্তার হোসেন, ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া আক্তার।

নিহত আরজু বেগমের বড় বোন পরী বেগম বলেন, আমাদের নামে উল্টা ২টা মামলা দিয়া আমাদের হয়রানি করতাছে। তাদের মামলার কারণে আমরা কোর্টে যাইতে পারতাছি না। যদিও কোর্টে যাই তাইলেও হেগো উপরে কমসে কম ১০০ উকিল দাড়ায়। আমাগো পক্ষে শুধু এপিপি (রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী) দাড়ায়। আর কোনো উকিল পাই না।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আপনাগো মাধ্যমে আমরা কিছু উকিল পাইতে চাই। আমরা অসহায় আপনারা আমগো লাইগা কিছু করেন।’

আরজু বেগমের ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া আক্তার বলে, ‘আমার বাবায় কী আমারে বড় করতে পারে? স্কুলে নিয়া যাইতে পারে? আমার বাবা মাইনষের থেইক্যা টাকা তুইলা মামলা চালায়। আমার মা আইজ নাইক্কা দেইখা, আমি আমার বাবারে রাইন্ধা খাওয়াইতে পারি না। আমার মার কি বিচার হবে না? আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই। আমার মারে যে মাইরা ফালাইছে তার কী বিচার হবে না?’

মামলার বাদী আরজু বেগমের বড় বোনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কালকে কোর্টের এক উকিলের সাথে কথা বলেছিলাম তাকে আমাদের পক্ষে দাড়াতে বললে তিনি বলেন, কাক কখনো কাকের মাংস খায় না। আমি একজন আইনজীবী হয়ে আরেকজন আইনজীবীর বিপক্ষে দাড়াবো না। যদি আমাদের সামনে ৫টা খুন করে তাও আমরা তার বিপক্ষে দাড়াবো না। বার থেকে নিষেধ করা আছে। জজ কোর্টের সব উকিল এই কথা বলে আমাদের পক্ষে দাড়াতে মানা করে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমরা গরিব বলে যদি একজন আইনজীবীর বিচার না হয়। তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের উপর থেকে মানুষের আস্থা থাকবে না। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো আসামিদেরকে যাতে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হয়।’

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ বিকেলে টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদক বিক্রয় নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিদ্যুতের শক দিয়ে ৫ সন্তানের জননী আরজু বেগমকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। আরজু বেগম র‌্যালি বাগান মাদক নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় রাতেই নিহতের বড় বোনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে জেলা আদালতের আইনজীবী এড. হামিদা খাতুন লিজাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।