পুলিশের পোশাকে হাজির ২৫-২৬ জনের একটি দল। হাতে পিস্তল ও শর্টগান। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই পিটাতে শুরু করলেন বাজারের ২ পাহারাদারকে। দোকানীরা বেড়িয়ে আসতেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটকে রাখলেন মার্কেটের দু’তলায় একটি বন্ধ রুমে। এরপর টানা ৩ ঘন্টা চললো লুট। তবে পুলিশ বলছে, ‘দুর্স্কৃতরা সিকিউরিটি গার্ডের পোষাক পড়ে এসেছে।’ 

সোমবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর বাজারের আলম সুপার মার্কেটে ফিল্মি স্টাইলের এ দূর্র্ধষ ডাকাতি সংগঠিত হয়। ৪টি দোকান থেকে ৮০ ভরি স্বর্ণ, ৪৫ কেজি রূপা, ১১টি মোবাইল সেট ও নগদ ১০ লাখসহ ৫২ লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায় ডাকাত দলটি।

এসময় ডাকাতদের হামলায় দোকান ২ কর্মচারী ও ২ পাহারাদার সহ ৪জন আহত হয়েছে।

পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানাগেছে, পুলিশের পোষাকে হাতে পিস্তল ও শর্টগান নিয়ে ২টি স্পিট বোর্ডে আসে ২৫/২৬ জনের একটি ডাকাতদল। বাজারের পাহারাদার আব্দুল ও হাসেমকে আটক করে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় মার্কেটের ভাড়াটিয়া ও  নির্মান শ্রমিক কবির হোসেন, মোহর আকন্দী ও মাসুদকে মার্কেটের দোতলায় আটক করে বাজারটি ঘেরাও করে ফেলে ডাকাতদল। পওে জ্জ্বল স্বর্ণালঙ্কার, শাহিনের স্বর্ণের দোকান ও  মোস্তফার স্বর্ণের দোকানের তালা ভেঙ্গে ৮০ ভরি স্বর্ণ, ৪৫ কেজি রূপা নিয়ে যায়। পাশাপাশি মুক্তার হোসেনের মোবাইলের দোকানের তালাভেঙ্গে ১১টি মোবাইল সেট লুটে স্পিট বোর্ড যোগেই নিয়ে যায় ডাকাত দলটি।

উজ্জ্বল স্বর্ণালয়ের মালিক উজ্জ্বল হোসেন জানান, কালাপাহাড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি মার্কেটের ১‘শ গজের মধ্যে হলেও ঘটনার সময় কোন পুলিশ যায়নি। এ সুযোগে আমার দোকানের জুয়েলারীর ৩টি সিন্দুক ভেঙ্গে ৭৫ ভরি স্বর্ণ, ৪১ কেজি রূপা ও ৭ লাখ টাকা লুট করে ডাকাতদল। ঘটনার পর পর রাধানগর বাজারে ডাকাত আতংক বিরাজ করছে।

দুপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (গ-অঞ্চল) অনিচ উদ্দিন ও আড়াইহাজার থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দুস্কৃতিকারীরা সিকিউরিটি গার্ডের পোষাক পড়ে আসছে বলে শোনাগেছে। এছাড়াও উজ্জ্বল স্বর্ণালয়ের কর্মচারী প্রসেনজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।