অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ।
তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দেওয়া আবেদনে তিনি নারায়ণগঞ্জ আমলি আদালত নং-২-এর অধীন ফতুল্লা থানার মামলা নং-১২(৬)২০২৫ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
আবেদনে মামলায় ৩৬৪/৩৭৯/৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে আলহাজ মোহাম্মদ সোহাগ উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক ময়দার মিল রয়েছে। ময়দার মিলের পাশাপাশি শিপিংসহ অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গেও তিনি জড়িত।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জুন তাকে কয়েকজন ব্যক্তি অপহরণ করে এবং তার কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়। পরে পরিবারের সহযোগিতা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় তিনি মুক্ত হন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর তার স্ত্রী ২০২৫ সালের ৩ জুন ফতুল্লা থানায় এফআইআর নং-১২ দায়ের করেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় একাধিক আসামি গ্রেপ্তার
মামলা দায়েরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলার বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের কয়েকজন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন।
বাদীপক্ষের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৬ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ আমলী আদালত নং-২, ফতুল্লা চার্জশিট গ্রহণ করেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দির বিষয়ও উল্লেখ
মামলার তদন্ত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টিও বাদীপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তবে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে কী বলা হয়েছে এবং ওই বক্তব্যের বিচারিক প্রমাণমূল্য কতটুকু—তা আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননাশের হুমকির অভিযোগ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ অভিযোগ করেন, মামলার জামিনে থাকা আসামিরা বর্তমানে বাইরে ঘোরাফেরা করছেন এবং তাকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসামিরা তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের যেকোনো ধরনের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এ অবস্থায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে পারেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পাঠানোর আবেদন
মামলার দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ আমলী আদালত নং-২, ফতুল্লা থানার মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ।
আবেদনের অনুলিপি আইন সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ; জেলা ও দায়রা জজ, নারায়ণগঞ্জ এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM), নারায়ণগঞ্জ বরাবরও দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার নিয়ে উদ্বেগ
বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় চার্জশিট আদালতে দাখিল ও গৃহীত হওয়ার পর বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হুমকির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের আবেদন, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হলে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর পাশাপাশি তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিও নিরসনে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও হুমকির বিষয়গুলো মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ ও আবেদনে উত্থাপিত বক্তব্য। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এবং তাদের আইনগত দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।













