ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া ৫৮ টাকা ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৪ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে প্রশাসন, বাস মালিক সমিতি ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৬ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ঘোষিত অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ (ব্লকেড) কর্মসূচি ৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে তিন ঘন্টা চলে এ বৈঠক। পরে যৌথ ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের ভাড়া ৩৪ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সাধারণ যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চার দফা বৈঠকের পরও সমাধান না হওয়ায় সাতটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ আন্দোলনও ৬ অক্টোবর ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
বৈঠক শেষে জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, যাত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চেম্বার অব কমার্স, বিআরটিএ প্রতিনিধি ও বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র প্রতিনিধিরা ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
তিনি বলেন, “নীতিগতভাবে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বাস মালিকরা ভাড়ার বিষয়ে কিছুটা ছাড় দিতে সম্মত হয়েছেন। আগামী ৭ অক্টোবর বিকেল চারটায় আমরা সবাই আবার একসঙ্গে বসে চূড়ান্ত ব্রিফিং দেব।”
নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধানের লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকের পর নীতিগতভাবে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে।
নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি বাস মালিকদের ব্যবসাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী বলেন, প্রশাসনের আশ্বাস এবং বাস মালিকদের নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সেদিন একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ হবে বলে তারা আশা করছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা বলেন, সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া ৫৮ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের ভাড়া ৩৪ টাকা করার প্রস্তাবের পক্ষে নীতিগত অবস্থান তৈরি হয়েছে। অন্যান্য বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তারা সময় চেয়েছেন। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং রেলপথ দ্বিমুখী করে ট্রেনের বগি বাড়ানোর বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নজর দেবে বলে আশা করেন তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা জানান, সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ সহজ করতেই সাময়িকভাবে ব্লকেড কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে ৭ অক্টোবর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজপথের আন্দোলন ও পরবর্তী কর্মসূচি বহাল থাকবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, সিটি বন্ধন পরিবহনের পরিচালক শেখ সালাউদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন খান (লিটন), পরিচালক মো. রতন, উৎসব পরিবহনের পরিচালক মো. লিটন ও মো. আনোয়ার, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান শামীম, ছাত্রদলের মেহেদী হাসান ফারহান ও সারোয়ার হোসেন সজীব, জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের মুখ্য সংগঠক হিমাংশু দেওয়ান, জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের আশরাফুল ইসলাম মুজিব প্রমুখ।













