নারায়ণগঞ্জে দুর্গাপূজায় ২৪০ মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন: এসপি হাবিবুর রহমান

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জেলার সুযোগ্য ও চৌকস পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, গুজব একটি সামাজিক ব্যাধি। একটি গুজব মুহূর্তের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে। তাই গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে কেউ যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করবেন না।

তিনি আরও বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহজনক কোনো তথ্য বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানান। আমাদের সাইবার মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত থাকার চেষ্টা করলে তাকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসপি হাবিবুর রহমান জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবার ২৪০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিমা তৈরির স্থান থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকবে। পূজার সময় ভক্তদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পুলিশের সকল থানা, ফারী ও ডিবি পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ হলো ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা। এখানে হিন্দু-মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে। নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ জেলার মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে আসছে। আমরা এবার বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

তিনি জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও তা সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বিকল্প বিদ্যুৎ (জেনারেটর/আইপিএস) ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রসহ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে ইভটিজিং প্রতিরোধে বিশেষ টিম থাকবে। নারী ভক্তদের কোনো সমস্যা হলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধানের ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা ডেস্ক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন ধর্ম, শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« ডিসেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১