নারায়ণগঞ্জে ২৪০ পূজা মণ্ডপ, নিরাপত্তা জোরদার

নারায়ণগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। জেলার ২৪০ টি পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সিসিটিভি স্থাপন, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু, সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন ও নিয়মিত টহলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ, আনসার, এসআরবি, বিজিবি ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হবে।
নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে
১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এবার দেবীর আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়।
জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির বলেন, উৎসবের আনন্দে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি স্থাপন, পূজা কার্যক্রম সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, আনসার, এসআরবি, বিজিবি ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন হবে। মণ্ডপ কেন্দ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করবে।
জেলা পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান বলেন, পুজা মন্ডপ ও আশপাশে পোশাকধারী ৭৫০ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পূজা মণ্ডপের ভেতরের নিরাপত্তার পাশাপাশি পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেদিকেও নজরদারি রাখা হচ্ছে।মণ্ডপের আশপাশে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা অঞ্চলে ৭৯, বন্দর উপজেলায় ২৯, সোনারগাঁও উপজেলায় ৩৫, আড়াইহাজার উপজেলায় ৪০, রূপগঞ্জ উপজেলার ৫৭ সহ মেট ২৪০ টি মন্ডপে এবার দূর্গা পুজা হবে। পূজার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে জেলার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তুতিও রয়েছে।
এদিকে ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা করা হয়েছে। সবগুলোতে না হলেও অনেক মন্দিরে আরাধনার মধ্য দিয়ে পুজা শুরু হয়েছে। জেলার সব মন্ডপে ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীতে পুজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে। মন্ডপ ও আশপাশ এলাকা এরই মধ্যে বর্নিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। শুক্রবার দিন দেবী ঘোটকে আগমন করবেন। নগরীর নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের রামকৃষ্ণ মিশনে এবং আরো ক’ মন্দিরে কুমারী পূজার আয়োজন থাকবে। পুজা চলাকালে কোন কোন মন্দির কিংবা মঠে নাড়ু, খিচুরী প্রসাদের ব্যবস্হা থাকবে।
দেবী এবার নৌকায় গমন করবেন। জেলাজুড়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমি গন্য করা হবে। নগরীর চার নম্বর ঘাটে বুধবার দেবীকে বিসর্জনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও জেলার অন্য নদীগুলোতে ওইদিন দেবী বিসর্জনের ব্যবস্হা থাকবে।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জানুয়ারি ২০২৭ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
    ১২৩
৪৫৬৭৮৯১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১