নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিশালায়তনে প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপি জামায়াতে গভীর চিন্তা

আবু সাঈদ কাদেরী:  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আয়াতন বেড়ে বিশাল এলাকা হয়েছে। ওই কারনে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে প্রার্থীতা নিয়ে গভীর চিন্তা শুরু হয়েছে।ওই দুই মেরুর কাকে প্রার্থী করলে বিজয় আসবে -তা নিয়ে এক প্রকার দু:চিন্তা শুরু হয়েছে।

এমন আশংকা বিএনপি জামায়াতের তৃনমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২০১১ সালের ৫ মে গঠন হয়। নারায়ণগঞ্জ, কদম রসুল, সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলে ২৭ টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের পাশাপাশি কর আদায় শুরু হয়। সিটি কর্পোরেশনে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর এবং ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ও ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারী তিনটি নির্বাচন হয়। সব নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত বা সমর্থিত প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হয়। শুধু তাই নয়, তিন বার একজনই মেয়র পদে বিজয়ী হন। আর তিনি হলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি মেয়র পদে নির্বাচন করতে গিয়ে পৌরসভার সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রথম বার আওয়ামীলীগের শামীম ওসমান এবং বিএনপির তৈমুর আলম খন্দকারকে, দ্বিতীয় বার বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন খান, তৃতীয় বার বিএনপির বহিস্কৃত তৈমুর আলম খন্দকারকে পরাজিত করেন।

সিটি অঞ্চলে সেলিনা হায়াৎ আইভী অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে হাজির হন। দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ জোট সরকারের পতন হয়।দেশে ৭ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। সরকার দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিদের ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট অব্যাহতি দিলে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী অপসারিত হন।

সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে এরপর বিভিন্ন কারনে মামলা করা হয়। দেওভোগের বাড়ী থেকে ২০২৫ সালের ৯ মে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে ১২ টি মামলা করা হয়।তিনি প্রায় এক বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন।আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের ৩ জুন তাকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। এদিকে বিএনপি সরকার নিয়োগ দিলে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দায়িত্ব গ্রহন করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের কোন তফসিল ঘোষনা হয় নি।এরপরও বিভিন্ন দল মেয়র প্রার্থী ঘোষনা করেছে।এর মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী মেয়র পদে আব্দুল জব্বারকে প্রার্থী ঘোষনা করে।জামায়াত জোটের শরিক খেলাফত মজলিস মেয়র পদে মামুন সিরাজুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করে। বিএনপি কাউকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেনি।তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকগন প্রাথমিক ভাবে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দিবেন বলে আভাস দেয়।

এছাড়া বিএনপি নেতা সিটিজেনস ব্যাংক চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান মাসুূদ এবং সিটি কর্পোরেশনের তিনবারসহ চার বার বিজয়ী সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের ভাই রাকিবুল ইসলাম প্রার্থী হবার জন্য প্রচারনা করছেন।

অপর দিকে সরকার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির ৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশন ভূক্ত করার জন্য প্রস্তাবনা স্হানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাঠান। তার প্রস্তাব গৃহিত হয়ে যে কোন দিন গেজেট হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সিটি কর্পোরেশন এলাকা বিশাল অঞ্চলে রূপ নিবে।আর ওই কারনে নির্বাচনের হিসেব নিকেশ বদলে গেছে।আগের ভোটের হিসেব আর তার চেয়েও নতুন অঞ্চলে দুইগুন বেশি ভোটসহ প্রায় তিনগুন ভেটারের নিকট পরিচিত হওয়া, ভোটারের মন জয় করা, ভোটে জেতার কৌশলসহ নানা বিষয় সামনে এসেছে। একজন আইনজীবী বলেন, আওয়ামীলীগ কিংবা সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন করার সূযোগ নেই। যে কোন ভাবেই হোক আইভীর প্রার্থীতা আটকে দেয়া হতে পারে। তাই আওয়ামীলীগ মুক্ত নির্বাচনের মাঠে অন্যরা প্রতিদ্বন্দিতা করবে।

বিএনপি নেতা, কুতুবপুর ইউনিয়নের তিনবারের বিজয়ী চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, ফতুল্লা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ও আরো অনেকে প্রার্থী হবার জন্য প্রচারনা শুরু করেছেন। ফলে পুরো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল জব্বার, খেলাফত মজলিসের সিরাজুল মামুনের পাশাপাশি বিএনপির প্রায় অর্ধ ডজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক রয়েছেন।

মহানগর বিএনপির সাবেক সমাজকল্যান সম্পাদক মনির হোসেন সরদার বলেন, সিটির আয়াতন বাড়ানোয় আমাদের দলের প্রার্থীচ্ছুদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এটি গভীর চিন্তার বিষয়। বিশৃংখলা দেখা দিতে পারে।দলের কঠোর নির্দেশনায় একজন প্রার্থী হলে বিএনপি সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই বিজয়ী হবেন।

নগর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, সিটি এলাকা বিশালাকার হবে – এটা খুশির খবর। তবে, দলে অনেক যোগ্য প্রার্থী আছেন।দিন দিন প্রার্থীর নাম প্রকাশ পাচ্ছে। ।সবাই যেমন যোগ্য -তেমন অনেকে মনোনয়ন না পেলে কোন্দল সৃষ্টি করতে চেষ্টা করবে। ফলে দলের প্রার্থীর বিজয় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা এডভোকেট মনির হোসেন মাতবর বলেন, দলের প্রার্থী আব্দুল জব্বার যোগ্য ও বিজয়ী হবেন। তবে, নতুন এলাকা সংযুক্ত হওয়ায় কিছুটা হলেও চিন্তার কারন হয়ে দেখা দিয়েছে। নতুন এলাকায় আরো ভালো প্রার্থী থাকলে তা গুরুত্ব দেয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

খেলাফত মজলিসের নেতা মহিউদ্দিন বলেন, আমরা পুরাতন ও নতুন এলাকার উন্নয়নে কি কি করা যায় – তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি।নতুন তিনটি বিশাল ইউনিয়নের মানুষের কাছে ভোটের আগে পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচী নিয়ে যাবো।তাদের আশ্বস্ত করবো।বিজয় নিয়ে আসবো।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« এপ্রিল ২০২৭ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
   
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০