প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরে : বন্দরের চিহ্নিত মাকসুদ পরিবারের কুট কৌশলে ধরাশায়ী এমপিরা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মীরজাফর আপরাধী পরিবার হিসেবে চিহ্নিত রাজাকার মৃত রফিক চেয়ারম্যানের উত্তরসুরী মাকসুদ হোসেন একসময় বিএনপি কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নীজেদের ভালো রাখার জন‍্য আওয়ামীলীগের ওসমান পরিবারের সাথে হাত মিলিয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি বাগিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন মুছাপুর ইউনিয়নে রাজত্ব কায়েমেরপর তাদের পূর্বের চরিত্রে ফিরে যায়।

প্রায় একযুগ ওসমানদের বলে বলিয়ান হয়ে নীজেদের রাজত্বকে আরও শক্তিশালী বানিয়ে খোদ ওসমান পরিবারকেই চেলেঞ্জ করে বসে কিন্তু পরিনাম হয় শোচনীয়ভাবে পরাজয়। চতুর সুবিধাবাধী পরিবারটি যখন আম ছালা দুটিই হারায় তখনই সারা দেশের মধ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দানাবাধে।

এবার সুযোগ সন্ধানী পরাজিত হওয়ার বদলা নিতে বিএনপিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী পূর্ণরায় দেখিয়ে শুরু করে নতুন খেলা। আন্দোলনের আগুন যখনই উত্তাল দেশ ঠিক সে সময় নীজেদের রক্ষার জন‍্য আন্দোলনরত ছাত্রদের দলে প্রবেশের জোর চেষ্টায় লিপ্ত হয়। শুরু করে নতুন কৌশল। আন্দোলন চলাকালে প্রতিদিনই নানা ধরনের খাবার বিভিন্ন রসদ যোগান দেয়া শুরু করে। আন্দোলনেরপর চেষ্টা করে বিএনপির প্রার্থীকে নাকানি চুবানি খাওয়াতে কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। আবারও সাহস দেখায় বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার কিন্তু প্রথমবারের মতোই হয় তার শোচনীয়ভাবে পরাজয়।
অবশেষে দোষরের তকমা নিয়ে পরাজিত মাকসুদ কে জেলে যেতে হয়। অনেকদিন জেল খাটারপর আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সহ কিছু আইনজীবীদের সহায়তায় মাকসুদের জামিন হয়।
কাহিনি এখানেই শেষ নয় প্রতিশোধের তুষের আগুন জ্বলতে থাকে সেই সাথে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়। চলে আসে মহেন্দ্র ক্ষণ। নতুন নাটক তৈরী করে ফেলে স্বপরিবারে মিলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের ঘোষণারপর পরই সব প্লানমতো রেডি। এরপর নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের বিএনপির এমপি এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালামের সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথে প্রতিশোধের নেশায় মাকসুদ ও তার বাহিনীর সদস‍্যরা ঝাপিয়ে পরে। পিটিয়ে গুরুত্বর যখম করে বিএনপির এমপি এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালামের সমর্থকদের। এরপর নিজেরাই নিজেদের কথিত অফিস ভাংচুর করে এবং পরে কিছু মহিলা সহ তাদের পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি মোবাইলে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে ছেড়েদেয়।

বিএনপির এমপি এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালামের নির্যাতিত সমর্থকরা অভিযোগ করে বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও তার ছেলে শুভ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করে জানান, ১ অক্টোবর সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের সময়ে নেতাকর্মীরা বন্দরের লাঙলবন্দে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে জমায়েত শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই হামলার শিকার হন।
বন্দর থানার ২৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলো মাকসুদ, ছেলে মাহমুদুল রহমান শুভ, অন্তর, পলাশ, মনির মেম্বার, মজিবুর রহমান, আবুল কালাম, কাজী পনির, রিপন, ফারুক, ইকবাল হোসেন, কাজল সহ অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী যাওয়ার পথে বন্দর থানাধীন লাঙ্গলবন্দ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান ও অভিনন্দন শেষে আমি আমার সঙ্গীয় নেতা-কর্মীগণ ফেরার পথে সকাল ১০টায় বন্দর থানাধীন ঘরিপাড়া লাঙ্গলবন্দ ১ নং বিবাদী মাকসুদ চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে বিবাদী মাকসুদ চেয়ারম্যানের প্রকাশ্যে হুকুমে ২ নং বিবাদীর নেতৃত্বে এজাহারনামীয় সকল বিবাদীগণ সহ তাহাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে আমাদের চলার পথ গতিরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত মারপিট শুরু করে। বিবাদীগণ আমাকে সহ আমার সঙ্গীয় নেতা-কর্মীদের লোহার রড, এসএস পাইপ ও কাঠের ডাসা দিয়া এলোপাথাড়ি মারপিট করে জখম করে। আমাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজনে এগিয়ে আসলে আমাকে সহ আমার সঙ্গীয় নেতা-কর্মীদের সময়-সুযোগ পাইলে খুন-জখম কররে লাশ গুম করে ফেলবে মর্মে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমি সহ আমার সঙ্গীয় নেতা-কর্মীগণ জখমী অবস্থায় বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করি।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« নভেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
      ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০