নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের পর শামীম হোসেন (৩৫) নামে এক ইজিবাইক চালক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী ময়ূরী বেগম (৩০) গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতাশাল এলাকায় ফারুক হোসেন খোকনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম হোসেন শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার রানীশাহ গ্রামের মৃত নুরু বেপারীর ছেলে। আহত ময়ূরী বেগম একই গ্রামের জয়নাল মাদবরের মেয়ে। এই দম্পতির ফাহিম (১০), ফাতেমা (৪) ও ফিরিস্তা (১) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শামীম ও ময়ূরীর মধ্যে প্রায়ই কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হতো। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাদের মধ্যে ফের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শামীম বাসা থেকে বের হয়ে যান।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর শামীম বাসায় ফিরে দরজার সামনে স্ত্রী ময়ূরীর গলায় ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আহত ময়ূরী গলা চেপে ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে বাড়ির বাইরে চলে যান।
এরপর শামীম ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর পাশের কক্ষে থাকা তার মা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। পরে দরজা খুলে ঘরের ভেতর ফ্যানের সঙ্গে শামীমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ময়ূরীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। একই সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুর সাড়ে ১টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের বড় ভাই মোস্তফা বলেন, ‘তাদের সংসারে তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। কী কারণে শামীম এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।’
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের পর স্বামীর আত্মহত্যার অভিযোগের পেছনে পারিবারিক কলহের প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, আহত নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সুস্থ হলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আহত নারীর বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।













