ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, গতবার টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিদ্যালয়ের পাসের হার আগের প্রায় ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৭৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এতে ওই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সভাপতি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে আন্তরিক। বিদ্যালয়ের মাঠসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সুন্দরভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফতুল্লা পাইলটের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব একজন শিক্ষানুরাগী ও গতিশীল ব্যক্তির হাতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় একসময় ফতুল্লা পাইলট একটি ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, ‘আজ এখানে যে ৪৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছ, তোমরা শুধু নিজেদের সম্মানিত করনি, আমাদেরও সম্মানিত করেছ। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাকে সম্মানিত করেছ। একই সঙ্গে তোমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, ভবিষ্যতেও তোমরা ফতুল্লা পাইলটের নাম উজ্জ্বল করবে। একসময় হয়তো তোমাদেরই কেউ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলবে আমি এই স্কুল থেকে পড়াশোনা করে আজ একটি অবস্থানে দাঁড়িয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, তোমাদের প্রত্যেকের সেই যোগ্যতা ও প্রতিভা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। কারণ বিদ্যালয় ও পরিবার থেকে পাওয়া শিক্ষা ভবিষ্যতে ভালো জায়গায় পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এতিম শিশু ও বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের পরিচিত কোনো শিক্ষার্থীর আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হলে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক কিংবা অভিভাবক প্রতিনিধিদের জানাবেন। আমরা তাদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত রুবেল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুরাইয়া আশরাফী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা, ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য তুষার আহম্মেদ মিঠু, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. আবু সাইদ, সিনিয়র শিক্ষক শাহিদা আক্তার, বাহাদুর আলী আকন্দ ও নুরুল কবিরসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« আগস্ট ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
     ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১