নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারকে যারা আদালত প্রাঙ্গণে পুনর্বাসিত করতে চাচ্ছে, নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাদের সেই অভিলাষ কোনোভাবেই পূর্ণ হতে দেবে না।’
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘গতকাল আপনারা দেখেছেন, আইন সবার জন্য সমান থাকার সুযোগ নিয়ে এই আদালত প্রাঙ্গণে এসে রাজনীতি করতে চাচ্ছে এবং ওই ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারকে পুনর্বাসিত করতে চাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল যারা মিছিল করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন এবং ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ছবি দেখে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। কারণ তাঁরা এই স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন।’
প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন বা অন্য কোনো প্রশাসন যদি তালবাহানা করে কিংবা ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, তাহলে এর দায়দায়িত্ব তাদেরই বহন করতে হবে। আমাদের দাবি একটাই, যারা এই ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠাতে হবে।’
বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছি। আমরা তো নিষিদ্ধ ছিলাম না। তারপরও গত ১৫ বছরে নারায়ণগঞ্জে কী হয়েছে, তা সবাই দেখেছেন। আমি নিজেও সাতবার কারাবরণ করেছি। আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।’
আদালত প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণকে সুশৃঙ্খল ও পবিত্র রাখতে হবে। এখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে।’
এর আগে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, পিপি জাকির হোসেন, যুবদলের জেলা সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, অ্যাডভোকেট গালিব, অ্যাডভোকেট বিল্লালসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।













