নারায়ণগঞ্জ ৭১ নিউজ: নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ নিয়েছে। জেলায় শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই ৬১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু ক্রমেই উদ্বেগ,উৎকন্ঠার কারন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা শুনা গেলেও সরকারের দপ্তরে কোন তথ্য নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা: এস এম সাখাওয়াত হোসেন ওই তথ্য প্রদান করেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রনে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী ও সরঞ্জামাদি রয়েছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন থেকে মশক নিধনে ঔষধ ছিটানোর দৃশ্য নাগরিকদের চোখে পড়ে না।তবে,প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান হেটে হেটে লিফলেট বিতরন করে প্রচার পেয়েছেন।তাই বাড়ীঘরের মানুষ লিফলেট দেখেও নি, সচেতন হবার সূযোগও পায়নি।ফলে কার বাড়ীর আঙ্গিনায় কখন ডেঙ্গু মশার প্রজনন হচ্ছে – তা অনেকেই জানেন না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা: এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৭ জন নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।তান্মধ্যে নারায়ণগঞ্জ
তিনশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজন রয়েছেন। এ ছাড়া আড়াইহাজারে আটজন, রূপগঞ্জে ১০ জন, বন্দরে দু’ জন এবং সোনারগাঁওয়ে সাতজন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ২৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। এ ছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি সেপ্টেম্বরের ১৭ দিনেই ছয়শ ১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যা এ বছর ডেঙ্গুর আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হারে সর্বোচ্চ।
জেলা সিভিল সার্জন বলেন, অপরিচ্ছন্নতা ও অসচেতনতার কারণেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে মানুষকে পরিপূর্ণভাবে সচেতন হতে হবে। তা নাহলে ডেঙ্গু আক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।










